"ভালোবাসার গোধূলী বেলা"

গোধূলী বেলায়, সূর্যাস্তের সময় স্নিগ্ধ বাতাসে ভেসে আসে একটি বিশেষ অনুভূতি। সেই অনুভূতি রূপ নিয়েছিল রাজিব এবং তনুর মধ্যে।
তনু ছিল গ্রামের একটি সাধারণ মেয়ে, স্বপ্নে ভরা চোখ। রাজিব শহরের ছেলে, কিন্তু গ্রামের পরিবেশে প্রথমবার আসার পরেই তাকে টানতে শুরু করেছিল কিছু। প্রথমে সে তনুর হাসির দিকে নজর দিয়েছিল। এমন এক মিষ্টি হাসি, যে হাসি কোন গান বা কবিতার চেয়েও বেশি সুন্দর।
একদিন, রাজিব সিদ্ধান্ত নিলো, সে তনুর সাথে কথা বলবে। তনু রাজিবের দিকে তাকিয়ে হাসল, কিন্তু কিছু না বলেই চলে গেল। রাজিব একটু অবাক হয়ে রয়ে গেল, তবুও সে ঠিক করলো, আজকে আবার কথা বলবে।
এরপর কয়েকদিন পর, তনু একদিন গাছের তলায় বসে বই পড়ছিল। রাজিব তাকে দেখে এগিয়ে গেল। এবার সে তনুকে বলল, “তুমি জানো, তোমার হাসির মতো সুন্দর কিছু আর আমি কখনও দেখিনি।"
তনু একটু লজ্জা পেল, কিন্তু একরকম শান্তভাবে বলল, “কথাটা শুনে ভাল লাগল, কিন্তু এই ধরনের কথা আমি অনেক শুনেছি।"
রাজিব হেসে বলল, “তবে তুমি তো জানো না, আমি সত্যিই বিশ্বাস করি তোমার হাসির মধ্যে একটা আলাদা মাধুর্য রয়েছে।"
এভাবে প্রথমে একটু অবসরে, তারপর সময়ের সাথে সাথে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। একদিন, একসাথে নদীর ধারে হাঁটতে হাঁটতে রাজিব তার মনে ধারণা করে ফেলল, এই সুন্দর মুহূর্তটুকু শুধু বন্ধু হিসেবে নয়, একজন ভালোবাসার মানুষের সঙ্গেই কাটাতে চায়।
তনু কিছুক্ষণ চুপচাপ রইল, তারপর ধীরে ধীরে বলল, “রাজিব, তুমি জানো, আমি তোমাকে ভালোবাসি।"
রাজিব একটু অবাক হল, তবে তার চোখে অনেকটা আশ্চর্য্য ও আনন্দ ছিল। “আমি জানি তনু, আমি জানি," সে বলল, “তুমি জানো, আমি প্রথম থেকেই তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু কখনও সাহস পাইনি তোমাকে বলার।"
ওই সন্ধ্যায়, নদীর ধারের মেঘলা আকাশে তাদের ভালোবাসা প্রথমে অঙ্গীকার হয়েছিল। তারা জানত, জীবনের অনেক কঠিন পথ আসবে, কিন্তু সেই সন্ধ্যার আলোয় তারা একে অপরের হাত শক্ত করে ধরেছিল, এবং তাদের ভালোবাসা চিরকাল থাকবে।

0 Comments